জেলা প্রতিনিধি, গোপালগঞ্জ: দীর্ঘ ২০ বছর পর আওয়ামী লীগে দুর্গখ্যাত গোপালগঞ্জে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সমাবেশ করতে যাচ্ছে।
দলের কেন্দ্র ঘোষিত জেলা বিএনপির আয়োজনে কাল সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারী) শহরের পৌরপার্কে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
সমাবেশকে ঘিরে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। নেতাকর্মীদের মাঝে বইছে আনন্দের জোয়ার। ব্যানার-ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে সড়ক-মহাসড়ক। সমাবেশ সফল করতে ও বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে বিএনপি ও সহযোগি সংগঠন প্রচার-প্রচারণা ও লিফলেট বিতরণ কর্মসূচী পালন করছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি রোধ, আইন শৃঙ্খলার উন্নতি ও নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণাসহ বিভিন্ন দাবি আদায়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচি অংশ হিসেবে এ সমাবেশের আহ্বান করা হয়।
এ জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ড. আসাদুজ্জামান রিপন ও প্রধান বক্তা হিসেবে থাকবেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক (ফরিদপুর বিভাগ) শামা ওবায়েদ। বিশেষ অতিথি থাকবেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক (ফরিদপুর বিভাগ ) সেলিমুজ্জামান সেলিম, কেন্দ্রীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক (ফরিদপুর বিভাগ) খন্দকার মাশুকুর রহমান, সহ আইন বিষয়ক সম্পাদক জয়নুল আবেদিন। কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাইফুল ইসলাম পটুসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত থাকবেন। জনসভার সভাপতিত্ব করবেন জেলা বিএনপির আহবায়ক শরীফ রফিকউজ্জামান।
জেলা বিএনপির আহবায়ক শরীফ রফিকউজ্জামান বলেন, ‘গোপালগঞ্জ শহরের শেখ কামাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ২০০৪ সালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সর্বশেষ ফরিদপুর বিভাগীয় ইউনিয়ন সভা করেছিলেন। যা জনসভায় পরিণত হয়েছিল। ২০ বছর পর নেতাকর্মীরা ৩০-৪০ হাজার লোকের সমাগমের টার্গেট নিয়ে জেলার সর্বত্র তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করছেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় ৩১ দফা বাস্তবায়নে জনসম্পৃক্তা বাড়াতে উৎসবের আমেজে নবীন-প্রবীণ সবাই কাজ করছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘গত পনের বছর ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসররা গোপালগঞ্জে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের স্বাধীনভাবে একটি কর্মসূচীও পালন করতে দেয়নি। বিগত সময় জাতীয়তাবাদী ধারার সমর্থকরা ভয়ে আত্মগোপনে ছিল, কোন প্রোগ্রাম করতে পারেনি। ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর এখন আর কোন ভয় নেই। এখন একটি মুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। এটি একটি জাতীয় রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় প্রোগ্রামের অংশ। তাই ২০ বছর পর কোন বাঁধা ছাড়াই স্বাধীনভাবে বিজয়ের আনন্দে জনসভায় ৩০ হাজার লোকের সমাগম ঘটবে। আমরা সোমবারের সমাবেশকে কেন্দ্র করে সব ধরণের প্রস্তুতি নিয়েছি। ভেন্যু সাজানোর কাজ চলমান রয়েছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন সড়কে নেতাদের তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে।’
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি সিকদার শহিদুল ইসলাম (লেলিন) বলেন, ‘দীর্ঘদিন আমরা উম্মুক্ত কাজ করতে পারিনি। ২৪ তারিখের সমাবেশকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মাঝে আনন্দ মুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। আমার নেতা কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক (ফরিদপুর বিভাগ ) সেলিমুজ্জামন সেলিমের নির্দেশে কাজ করে যাচ্ছি এবং এ সমাবেশ সুন্দরভাবে সফল করতে কাজ করে যাচ্ছি।’